Main Menu

অধিকার বঞ্চিত মফস্বল সাংবাদিকদের প্রাণের সংগঠন বিএমএসএফ এর ১৪ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হউন: শহীদুল ইসলাম পাইলট

অধিকার বঞ্চিত মফস্বল সাংবাদিকদের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ মফস্বল সংবাদিক ফোরাম। সকল পেশাদার মফস্বল সাংবাদিক নিয়ে গঠিত এ সংগঠন। এ সংগঠনের ব্যাপ্তী সারা বাংলাদেশ ব্যাপী। তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত লাঞ্চিত, বঞ্চিত, অবহেলিত, অস্বীকৃত মফস্বল সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর জন্ম। বিএমএসএফ ঘোষিত ১৪ দফা দাবী মফস্বল সাংবাদিকদের প্রাণের দাবী। এ দাবীর সঙ্গে তাদের মান-সম্মান, রুটি রুজি, নিরাপত্তা অধিকার ও স্বীকৃতি জড়িত। এ দাবী আদায়ের জন্য দরকার ইস্পাত কঠিন ঐক্য। সে ঐক্য মফস্বল সাংবাদিকদের গড়ে তুলতে হবে। সকল ভয়-ভাতি, লোভ-লালশা, মান-অভিমান, হিংসা-বিদ্বেষ, চাওয়া-পাওয়ার উর্ধ্বে থেকে সকলের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে ১৪ দফা দাবী আদায় অবশ্যই সম্ভব। কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রখ্যাত সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম পাইলট।
সম্প্রতি দৈনিক ভোরের সময় পত্রিকার ৮ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কথাগুলো বলেন। তিনি মফস্বল সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এ সময় আরো বলেন, মফস্বল সাংবাদিকগণ ৪৬ বছর যাবৎ তাদের অধিকার ও স্বীকৃতি বঞ্চিত। তারা জীবন বাজী রেখে সকাল সন্ধ্যা দেশ মাতৃকার সেবা করে যাচ্ছেন। সরকারের উন্নয় অগ্রগতি তুলে ধরছেন। দেশের সমস্যা সম্ভবনার কথা তুলে ধরছেন। অথচ তাদের অধিকার স্বীকৃতির কথা কেউ বলছেনা। অধিকার হারা এসব সাংবাদিক খেয়ে না খেয়ে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে ৪৬ বছর যাবৎ কাজ করে যাচ্ছেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এমনটি ছিলনা। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠাই ছিল স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে সবাই মুখে ফেনা তুলছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে মফস্বল সাংবাদিকদের অধিকার ছিল। মুক্তিযুদ্ধে মফস্বল সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ ছিল। স্বাধীনতার পর কম বেশী সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠা হলেও মফস্বল সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়িত হয়নি। মিডিয়াগুলো ডেস্কে যারা কাজ করেন তাদের বিলাশ বহুল গাড়ি-বাড়ি, বেতন ভাতা সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থাকতেও মফস্বল সাংবাদিকদের কোন বেতন ভাতা মিডিয়া কর্তৃপক্ষ প্রদান করছেন না। মফস্বল সাংবাদিকরা ঘরে খেয়ে বনের মহিস তাড়ানোর কাজ করছেন। ৪৬ বছর যাবৎ তারা এ কাজ করে যাচ্ছেন। সরকার আসছেন, সরকার যাচ্ছেন। দেশ উন্নয়ন অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নি¤œ মধ্যম আয়ের থেকে মধ্যম দেশে পরিনত হতে যাচ্ছে রাষ্ট্র। এ অবস্থায়ও মফস্বল সাংবাদিকগণ বিনা বেতনে কাজ করছেন। এটা একটা সর্বভৌমত্ব, সভ্য, আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের জন্য বড় বেমানান। যেখানে এক জন রিক্সাওলা কিংবা গার্মেন্টসকর্মী তাদের ন্যয্য অধিকার পাচ্ছে সেখানে জাতীর জাগ্রত বিবেগ মফস্বলে অবস্থানকারী কলমযোদ্ধারা তাদের অধিকার পাবেনা এটা বড় কষ্টকর। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীতার পর দেশে অনেক সাংবাদিক সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সংবাদ মাধ্যম সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সাংবাদিক সংগঠন সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু কেউ মফস্বল সাংবাদিকদের অধিকারের আত্তয়াজ তুলেননি। মফস্বল সাংবাদিক কথা চিন্তা করেন নি। এটা করার কারনে মফস্বল সাংবাদিকগণ চির বঞ্চিত, চির অবহেলিত থেকে গেছেন। কিন্তু আর না, বসে থাকার সময় নেই। অনেক সময় গড়িয়ে গেছে। অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নামার বিকল্প নেই। মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর ব্যানারে সকল মফস্বল সাংবাদিকদের একত্রিত হতে হবে। দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ঘোষিত ১৪ দফা দাবী আদায়ের আন্দোলনে সকল মফস্বল সাংবাদিকদের অংশগ্রহন করতে হবে। ১৪ দফা কোন ব্যক্তির দাবী নয়। এটা দেশের সকল মফস্বল সাংবাদিক ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর দাবী। এ দাবী বাস্তবায়নের মাধ্যমে সকল মফস্বল সাংবাদিকদের অধিকার ও স্বীকৃতি নিশ্চিত হবে। তিনি অনতিবিলম্বে সকল বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মফস্বল সাংবাদিকদের একত্রিত হয়ে কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।