Main Menu

মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজ এর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, কৃতিশিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

রুদ্রবার্তা প্রতিবেদক ॥ গতকাল ২০ জানুয়ারী শনিবার মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজ পরিবার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, কৃতিশিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশনের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এ কে এম শহীদুল হক বিপিএম, পিপিএম, ইন্সপেক্টর জেনারেল, বাংলাদেশ পুলিশ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বেগম শামসুন্নাহার রহমান সভানেত্রী, পুনাক। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, শরীয়তপুর পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন, বিপিএম, পিপিএম, শরীয়তপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ সাবেদুর রহমান খোকা শিকদার, শরীয়তপুর জেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল হেলিম ফকির, নড়িয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম ইসমাইল হক, নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন, ভোজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হক বেপারী এবং শরীয়তপুর জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এম ফরিদ আল হোসাইন।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে কলেজ ক্যাম্পাসকে রং বেরঙের পতাকা দিয়ে মনোমুগ্ধকর রূপে শোভিত করা হয়। ভবনগুলোকে আলোক সজ্জায় আলোকিত করা হয়।
অনুষ্ঠানটি দুটি পর্বে পরিচালিত হয়। প্রথম পর্বে সকাল থেকেই কলেজে শিক্ষার্থী, অভিভাবক আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ সমাগমে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান অতিথিকে প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করে। এর পরেই তিনি লাল গালিচা পেরিয়ে স্যালুটিং ডায়াসে ওঠেন। শান্তির পায়রা অবমুক্ত ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ সালাম গ্রহণ করেন। কুচজকাওয়াজ সালাম গ্রহণ করার পরেই শুরু হয় শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে মনোজ্ঞ ডিসপ্লে। ডিসপ্লেতে উঠে আসে ব্রিটিশ শাসন থেকে শুরু করে ৫২ ভাষা আন্দোলন, ৬৬ এর ৬দফা, ৬৯ এর গণ অভ্যূত্থান, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীনতা লাভ ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। পরবর্তীতে ক্রীড়াবিদদের অংশ গ্রহণে শুরু হয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং খেলা শেষে প্রধান অতিথি বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যের মাধ্যমে প্রথম পর্বের অনুষ্ঠান শেষ হয়।
দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকাল ৩টায়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মহোদয় স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠানের সুচনা করেন। এ পর্বে ছিল কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তিনি তাঁর বক্তব্যে ২০১৭ সালের কৃতিত্বপূর্ণ সাফলতা গুলো তুলে ধরেন। সফলতার মধ্যে ছিল ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ, জেএসসি পরীক্ষায় ১০০% পাশসহ ৬০% (৮৭জন) জিপিএ ৫ পাওয়ার গৌরব অর্জন, বাংলা এবং ইংরেজী মাধ্যমে বিতর্কে ঢাকার স্বনামধন্য স্কুল কলেজ গুলোকে পরাজিত করা। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন এ বছর জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলে মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হওয়ার ঐতিহাসিক সফলতা দেখিয়েছে। তিনি আরো বলেন অত্র প্রতিষ্ঠানটি পড়াশুনার পাশাপাশি বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে প্যারেড ও ডিসপ্লে প্রতিযোগিতায় শরীয়তপুর জেলায় প্রতি বছর প্রথম স্থান অধিকার করে থাকে। অধ্যক্ষ মহোদয়ের স্বাগত বক্তব্যের পর কৃতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে অনুভূতি প্রকাশ কালে একজন অভিভাবকতার বক্তব্যে বলেন তার সন্তানকে অত্র প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাটা ছিল তার সঠিক সিদ্ধান্ত।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাহমুদুল হোসাইন খান, জেলা প্রশাসক, শরীয়তপুর অত্র প্রতিষ্ঠানের ভূয়সী প্রশংসা ও ভালোবাসার কথা বলেন। তিনি জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রতি ক্লাসের সেরা ফলাফল অর্জকারী একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রীকে প্রেরণামূলক জেলাপ্রশাসক এ্যাওয়ার্ড-এ ভূষিত করেন। এ ব্যপারে অভিভাবকদের উচ্ছাস প্রকাশে বলেন এ এ্যাওয়ার্ড অত্র প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি মাইল ফলক। অনুষ্ঠানের এ পর্বে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী প্রধান, মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশনের ম্যানেজিং ট্রাস্টি, মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভানিংবডির সভাপতি এ কে এম শহীদুল হক বিপিএম, পিপিএম, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব বাংলাদেশ পুলিশ তাঁর গঠন মূলক বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবতা, দেশপ্রেম নিয়ে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার পরামর্শ দেন। জেএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানান। আগামীতে আরো ভালো ফলাফল করার জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আরো পরিশ্রমী হতে হবে। এর পরেই অত্র প্রতিষ্ঠানের সাংস্কৃতিক ক্লাবের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। এতে কৃতি শিল্পিদের গান, নাচ, কবিতা, নাটিকা পরিবেশিত হয়। সর্বশেষ জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পি সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, রিয়াজ, ফেরদৌস, প্রতীক হাসান, মম প্রমুখ অন্যান্য শিল্পিবৃন্দ।